ফালতু আজহারুল ইসলাম

ফালতু

“আপনি কি আমার সমস্যা কিছু ধরতে পারছেন? আপনার ভাবসাব দেখে তো কিছুই বুঝতে পারছি না!”

চটপট কথা বলে মেয়েটি। আজ দ্বিতীয় সেশন। দ্বিতীয় সেশনে মোটামুটি জড়তা কেটে যায়। ক্লায়েন্ট কথা বলা শুরু করে। এই মেয়েটি প্রথম সেশন থেকেই বেশ কথা বলছে। লক্ষণ ভালো।

আজিম সাহেব মৃদু হেসে বললেন, “আপনার কি কোনো তাড়া আছে? আমাদের সেশন তো ১ ঘন্টা। নিজের সম্পর্কে আরো কিছু বলুন, শুনি।”

“বলার কিছু নেই। কি বলব…আচ্ছা আপনার কি শীত পছন্দ? শীত আমার একদম ভাল্লাগে না।”

মেয়েটি চেয়ারে দুলছে। মনে হচ্ছে কিশোরী, মাস্টার্স পাশ করার চার বছর হলো বোঝা যাচ্ছে না। ভীষণ অস্থিরতা কাজ করছে তার মধ্যে। নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে কথা বলতে পারছে না, দ্রুত টপিক বদলাচ্ছে।

“শীত আমার ভালোই লাগে। আপনি কী অস্থির বোধ করছেন? একটু বলবেন, ঠিক এই মুহূর্তে কেমন লাগছে?”

মেয়েটি আজিম সাহেবের চোখে তাকাল, আবার চোখ ফিরিয়ে পায়ের দিকে নিল।

“সত্যি বলতে কি, আমার কোনো কিছুই ভালো লাগছে না। গত সেশন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ইম্প্রুভমেন্ট দেখছি না।”

“তার মানে, সারাদিন মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে, কোন কিছুতেই আনন্দ পান না?”

“হুম, সবকিছুই অর্থহীন মনে হয়। চারদিকে শুধু নাটক, ফালতু।”

“সবকিছু বলতে কি কি বোঝাচ্ছেন?”

“সেটাতো আপনার বোঝার কথা, আপনি তো সাইকোলজিস্ট। আমরা কেন বেঁচে আছি, সারাদিন কি করছি, কার কি লাভ হচ্ছে, কোনো কিছুর কী অর্থ আছে?”

“আচ্ছা, গুরুতর প্রশ্ন। সহজ কোনো উত্তর নেই। তবে, জীবন নিয়ে আপনার মনে অনেক প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। এটা ভালো বিষয়।”

“কিসের ভালো?” মেয়েটি কিছুটা আগ্রহ দেখাচ্ছে।

“মানে, যখন মনে প্রশ্ন জাগে তখন জানার আগ্রহ বাড়ে। সেখান থেকে নতুন তথ্য আসে আর এভাবে মানুষের মনের বিকাশ হয়। আচ্ছা, সারাদিন কি কি করেন, যার কোনো মুল্যই আপনি খুঁজে পাচ্ছেন না?”

“নাথিং ইউস্ফুল। ঘুম থেকে ওঠা, টয়লেট বাথরুম, খাওয়া দাওয়া, অফিস কাম কাজ, আবার বাসা, টয়লেট বাথরুম, আবার খাওয়া দাওয়া, আবার ঘুম।”

মেয়েটির কথা শুনে আজিম সাহেব বেশ মজা পাচ্ছেন। সরলতা আর সততার সুন্দর মিশেল আছে। আজিম সাহেব নোটপ্যাড নিয়ে বললেন, “আপনি তো দারুন বলেছেন। তাইতো, সারাদিন তো আমরা এগুলোই করি। আমি একটু লিখে রাখি।” তিনি বেশ কয়েকটা সার্কেল একে তার মধ্যে পয়েন্টগুলো লিখলেন। এরপর তীর দিয়ে একটার সাথে অন্যটা সংযুক্ত করলেন।

‘ঘুম—টয়লেট—খাওয়া—কাজ—খাওয়া—টয়লেট—ঘুম’

“গুড, তো এই যে ‘ঘুম—টয়লেট—খাওয়া—কাজ—খাওয়া—টয়লেট—ঘুম’ চক্র, এখানে কী আপনার কোনো আসুবিধা হচ্ছে? মানে, ঘুমোতে, খেতে বা কাজ করতে? উল্লেখ করার মত কিছু?”

কিছুটা সময় নিয়ে, “নাহ, তেমন কোনো প্রবলেম নাই। সবার যেগুলো হয় আরকি, জ্যাম, আসা যাওয়া ঝামেলা, এইসব।”

“আচ্ছা, তাহলে বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে, আপনার সবই ঠিক আছে। সাতটি চক্র ভালই চলছে। কিন্তু এর বাইরেও কিছু একটা আছে যেটা আপনাকে শান্তি দিচ্ছে না। আপনি কি ব্যাপারটা খেয়াল করেছেন?”

মেয়েটি আজিম সাহেবের চোখে চোখ রেখে মিটিমিটি হাসছে। মনে হচ্ছে, সে আনন্দ পাচ্ছে। কিছু একটা ধরতে পেরেছে। দুই হাত দিয়ে মাথার দুইপাশে আসতে আসতে টোকা দিয়ে বলল, “ইটস মাই ব্রেইন, দাক্তার সাহেব। দুনিয়ার কত্ত কিছু যে মাথায় সবসময় ভনভন করে।”

“হু, গুড রিয়েলাইজেশন। তার মানে শুধু বাইরের নয়, আরো একটা জগত আছে, মাথায়, রাইট?”

“অফ কোর্স! সারাক্ষণ একটা পর একটা টেনশন আসতেই থাকে। এটা ঠিক হচ্ছে না, ওটা ঠিক হচ্ছে না।” বলেই চেয়ার ছেড়ে উঠে গেল। বইয়ের সেলফের কাছে গিয়ে বলল, “এত বই, সব আপনি পড়েছেন?” সেন্ডেল ছেড়ে খালি পায়ে রুমে হাটছে সে। এই রুমে সবাই জুতা পড়েই আসে। নিশ্চয় ধুলো বালি লাগছে তার পায়ে। গ্যাবার্ডিন প্যান্টের সাথে কামিজ পড়েছে। খুব যে মানানসই হয়েছে বলা যাবে না। আজিম সাহেব বই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগেই মেয়েটি বলল, “একটু পানি খাওয়া যাবে?”

“অবশ্যই! বোতলে আছে, গ্লাস নেই, অসুবিধা হবে?”

“না না”। মেয়েটি ঢোক ঢোক করে পানি গিলছে, তার শব্দ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। এত তৃষ্ণা ছিল, অথচ এতক্ষন কিছুই বলেনি।

“শোনেন রিমা”

“রিমি”

“সরি, রিমি, বসুন। আপনার মতে আপনার মাথায় সারাক্ষণ কিছু না কিছু চলছে। এই চলা বলতে, আপনার আশেপাশে যা কিছু ঘটছে তার বিশ্লেষণ, প্রতিটি ঘটনার জন্য আপনার নিজস্ব একটা অর্থ দাড় করানো বোঝাচ্ছেন, রাইট?”

“হুম, তো কি হয়েছে?”

“কিছু হয়নি, শুধু খেয়াল করুন। আমার দিকে তাকান।” আজিম সাহেব এখন পাথরের মত স্থির, চোখের পাতাও নড়ছে না। রিমি চোখ ফিরিয়ে নিয়ে আবার তাকাল। ২০ সেকেন্ড, নিঃশব্দ। শুধু ফ্যানের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এতক্ষণ কি ফ্যান চলছিল না?

আজিম সাহেব একটু হেলে গিয়ে মৃদুস্বরে বললেন, “আপনি কি আমাকে নির্দিষ্ট করে বলবেন কী চলছে আপনার ভেতরে? সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা বা পরিবারের কথায় বলুন।”

রিমির গলা ভার হয়ে এসেছে। কান্না লুকানোর আপ্রান চেষ্টা করছে। অবশেষে হু হু করে কেদে উঠল। আজিম সাহেব নীরবে শুধু টিস্যু বক্সটা এগিয়ে দিলেন। মিনিট খানেক পর, নাক চোখ মুছতে মুছতে রিমি বলল, “শেলির কথা বলেছিলাম না গত সপ্তাহে।”

“আপনাদের তিন বোনের সবচেয়ে ছোটটা, ভার্সিটি ভর্তি কোচিং করছে, পড়ালেখা করে না শুধু ফেসবুক নিয়ে থাকে।”

“হ্যাঁ হ্যাঁ, সে গতকাল রাতে আমাকে বলেছে আমি নাকি ফকিন্নি, ভুত, আনকালচারড।”

“ঠিক কি হয়েছিল?”

“পাঁচ হাজার টাকা চাচ্ছিল। হেয়ার রিবন্ডিং করবে। আপনিই বলেন, তার কী এখন এগুলো করার টাইম। আজাইরা কাজে টাকা নষ্ট করার কোনো মানে আমি দেখি না। কোচিং এর জন্য এই মাসেই ১৬ হাজার দিয়েছি। টাকা কী হাওয়া থেকে আসে?”

“তার কথায় অনেক কষ্ট পেয়েছেন মনে হচ্ছে।”

“আমি তাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। সে হওয়ার পর মা অনেকদিন অসুস্থ ছিল। দুধ বানিয়ে খাওয়ানো, হাগুমুতু পরিষ্কার করা, বুকে ধরে ঘুমানো সবই আমি করেছি। সাদিয়া তো তখন ছোট, তিন কি চার বছর।”

“সাদিয়া, মানে আপনার মেঝ বোন?”

“হু, অথচ আজ দেখেন, পদে পদে আমাকে অপমানিত হতে হয়। বিন্দু মাত্র সম্মান নেই। আব্বু-আম্মু কিছুই বলেনা।”

“সাদিয়ার কি খবর? সেও কি একই রকম ব্যবহার করে?”

“না, কিন্ত সে আছে তার জগত নিয়ে। সেলফিস একটা মেয়ে। জানেন, সে খুব ভাল আছে। পড়াশোনা শেষ করার নাম নেই, পাত্র ঠিক হয়ে গেছে। ছেলেটা সুন্দর আছে। দুই ফ্যামিলি রাজি।”

“তাদের বিয়েটা কি আপনার জন্য ওয়েট করছে? বড় বোনের পর ছোট বোনের বিয়ে?”

“এটাই ত সমস্যা, ক্যামনে বোঝাই, আমি ত এখন বিয়ের জন্য রেডি না। সত্যি বলতে কি বিয়ে নিয়ে আমি কোনোদিন ভাবিনি। ব্যপারটা এরকম না যে, আমি নিজেকে দমিয়ে রাখছি, আমার মধ্যে ফিলিং টিলিংস আসে না।”

“আপনার বিয়ে নিয়ে নিশ্চয় পরিবারে বেশ আলোচনা হয়?”

“কিসের আলোচনা, রীতিমত যুদ্ধ হয়। মা সারাক্ষণ ঘ্যান ঘ্যান করছে। বাসায় যেই আসুক, তাকেই বলে আমার জন্য ছেলে দেখতে। হাসব না কাদব কিছুই বুঝিনা। গত সপ্তাহে তো মহল্লার নাইট গার্ডকে ডেকে বলেছে। বাবা কিছু বলেনা, কিন্তু ভাবসাব দেখে বুঝা যায়, বিরক্ত। আমি কী করব? মাঝে মাঝে মনে হয় কোথাও পালিয়ে যাই, কিন্তু সেটাও সম্ভব না।”

“কেন সম্ভব না?”

“বাসা ছেড়ে কোনোদিন কোথাও থাকিনি। আমি জানি একটা দিনও কোথাও টিকতে পারব না। আমার মাথা কী টোটালি খারাপ হয়ে গেছে? আমি কী পাগল হয়ে যাচ্ছি?”

“হওয়ার পথে। কয়েকদিন পর শিকল পরাতে হবে।” হাসিমাখা জবাব আজিম সাহেবের।

“মজা নিচ্ছেন? আমার মত অবস্থায় থাকলে আপনাকে এতদিনে শিকল পরাতে হতো।” রিমি কিছুটা হালকা হয়েছে।

“আপনি কি আমাকে ট্রাস্ট করতে পারছেন?”

“আগে পারতাম না। এখন মনে হচ্ছে, আপনি আমাকে বুঝতে পারছেন। রিলাই করা যায়।”

“থ্যাংক ইয়ু। আপনাকে আমি কেমন বুঝলাম, তার একটা সামারি করছি। ভুল হলে আপনি ত আছেন, সংশোধন করে দিবেন। ঠিক আছে?”

রিমি মাথা নাড়ল।

“আপনি আর দশটা মেয়ে থেকে অনেকটা আলাদা। সাজগোজ বা শপিং পছন্দ করেন না। আপনার মতে দিন গেলেই হলো। রাইট?”

“হুম, বাট কিভাবে বুঝলেন?”

“কিছুটা দেখে কিছুটা আপনার কথা শুনে। মেয়েরা সাধারণত ম্যাচিং করে পোশাক পরে। আপনার কোনো কিছুই সেরকম না। ফ্ল্যাট সেন্ডেল, পড়তে সহজ, ঝামেলা কম। টেবিলে আপনার পার্টস রেখেছেন, অনেকটা ছেলেদের মানি ব্যাগের মত। অনেক ভিজিটিং কার্ড বা ব্যাংক কার্ড থাকতে পারে, সাজগোজের কিছু নেই। মেয়েরা সাধারণত টুকটাক সাজগোজের জিনিস সাথে রাখে।”

“ভাল অবসারভেশন।”

“আমি জুতা পায়ে আছি, আপনিও এসেছেন। তাই বলা যায় ফ্লোরে ধুলা বালু থাকতে পারে। আপনি সেন্ডেল ছাড়াই এই রুমে হাটছেন। ধারণা করা যায়, পরিষ্কার পরিছন্নতা নিয়ে আপনার অত মাথা ব্যথা নেই। দিন গেলেই হলো। আপনি সম্ভবত একই পোশাক টানা দু তিনদিন পড়েন, তাইকি?”

রিমি এবার চমকে উঠল, তাকে কিছুটা বিব্রত দেখাচ্ছে। ঘার নিচু করে শরীরের কাছে নিয়ে আবার দ্রুত সোজা হল। “না, মানে।” রিমি বাক্য শেষ করল না।

আজিম সাহেব, মৃদু হেসে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন, “ইটস অকে। রিলাক্স।”

রিমি বলল, “শেলি আর সাদিয়ার সাথে এটা নিয়ে প্রায় লাগে।”

“হু, আপনি নিশ্চিত থাকেন, এই মুহুর্তে আমি আপনাকে কোনোভাবেই কোনো ক্যাটাগরিতে ফেলছি না। তাদের মত ভাবছি না। শুধু আমার পর্যবেক্ষণ বলছি।”

রিমি এবার গভীর মনোযোগ দিয়ে কথা শুনছে।

“ভাল পড়াশোনার প্রতি বরাবরই আপনার ঝোঁক ছিল। ফলও তাই হয়েছে। দ্রুত চাকরিও পেয়েছেন। সংসারে ইচ্ছে মত সহযোগিতা করতে পারছেন। এটা আপনাকে অনেক আনন্দ দেয়।”

“হু”

“এই পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব আপনার, বিশেষকরে দুই বোনের। কেননা, তাদের পেছনে আপনি সময়, শ্রম আর অর্থ ব্যয় করছেন। এরকম কিছু কি মাথায় কাজ করছে, সবসময়?”

রিমি মাথা নাড়ল।

“এতদিন ভালই চলছিল, কিন্তু গত কয়েক মাসে খেয়াল করছেন, বাড়ীতে আপনার কর্তৃত্ব কমে আসছে। বোনেরা কথা শুনছে না। এটা আপনি মানতে পারছেন না, তাইকি?”

রিমি ঘনঘন শ্বাস ফেলছে। তার শব্দ শোনা যাচ্ছে। রিমি বলল, “আপনি কনটিনিউ করেন।”

আজিম সাহেব বললেন, “এই ক্ষমতা হারানো নিয়ে যে আশঙ্কা বা অস্বস্থি, এটা এক নাম্বার পয়েন্ট।”

“দুই নাম্বার পয়েন্ট কি?”

“বলছি, পড়ালেখা করা, এরপর চাকরির চেষ্টা করা এসব নিয়েই এতদিন মগ্ন ছিলেন। জীবনের অন্যকিছুর প্রতি মনোযোগ দেননি বা দিতে পারেননি। এখন মনে হচ্ছে অনেক কিছু মিস করেছেন। অন্যদের সাথে তুলনা করে মন খারাপ হচ্ছে। বিশেষকরে, নিজের বোনদের সাথে। তারা সাজগোজ করে, মজা করে। আপনি সেরকম উপভোগ করতে পারছেন না। প্লিজ, কারেক্ট মি ইফ আই অ্যাম রং, সাদিয়ার সম্পর্কটা নিয়ে আপনি জেলাস বোধ করেন, তাইকি?”

রিমি কোনো কথা বলছেনা, দুই হাত গালে দিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে কথা শুনছে। তার চোখ টলমল করছে। কিছু বললেই পানি গড়িয়ে পড়বে।

আজিম সাহেবও নীরব আছেন। দুজনেই চুপচাপ, শুধু ফ্যানের আওয়াজ। নীরবতা অনেক বড় টনিক। নীরবতা ভাঙল রিমি। একটি দীর্ঘনিশ্বাস নিয়ে বলল, “আর কিছু?”

“যদিও আপনি বলছেন, বিয়ে করা নিয়ে আপনি মোটেও চিন্তিত না, কিন্তু আপনার মনে একটা আশঙ্কা আছে। সম্ভবত অন্যের সাথে মিশতে আপনার অসুবিধা হয়। তাছাড়া রোল ট্রানজিশন বা জীবনের একটি পর্যায় থেকে আরেকটি পর্যায়ে যাবার সময় অনেকেই সমস্যায় পরে। খাপ খাওয়াতেই মুলত সমস্যা হয়। ভয় কাজ করে। আপনার বেলায় সেরকম কোনো ভয় বা আশঙ্কা কাজ করতে পারে। মানুষের সাথে মিশতে অসুবিধা আর জীবনের নতুন স্তরে উন্নীত হওয়ার অজানা ভয়, এই দুইয়ে মিলে আপনার তৃতীয় অস্বস্তির কারণ হতে পারে, রাইট?”

“এভাবে চিন্তা করিনি, তবে আপনার কথায় যুক্তি আছে। একেবারে ফেলে দিতে পারছি না। আমিই তো দেখছি সব সমস্যা। এখন তাহলে কী করব?”

“আপনিই মানুষটা সব সমস্যা না। তবে নিজের মানসিক অবস্থা পরিবর্তন করতে হলে, যা কিছু করার নিজের মধ্যেই করতে হবে।”

“হু, বুঝছি। বলেই গভীর চিন্তায় ডুবে গেল রিমি।”  

আজিম সাহেব বললেন, “আর ইউ স্টীল হিয়ার?”

“ইয়েস, আই অ্যাম।”

“ঠিক এই মুহূর্তে আপনার মাথায় কী কী ভাবনা আসছে?”

“অনেক কিছু, ভাবছি শেলির সাথে ঝগড়ার কথা, আবার আম্মুর বকাবকির কথা…মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছি, কোনটার মানে কী?”

“আমি চাই আপনি পুরো মনোযোগ এখানে নিয়ে আসুন, চোখ বন্ধ করে শুধু শ্বাসপ্রশ্বাসের দিকে নজর দিন। খেয়াল করুন, কিভাবে দম নিচ্ছেন, আর দম ছাড়ছেন। অল্প কিছুক্ষণ। খেয়াল করুন হার্টের ছন্দ, অনুভব করুন তাপমাত্রা। আপনি এই মুহূর্তে এখানে আছেন, নিরাপদে আছেন।”

দুই মিনিট পর রিমি চোখ খুলল। তার চেহারায় শান্ত শান্ত আভা।

“এখন কেমন বোধ করছেন?”

“রিলাক্সড, ভেরি রিলাক্সড।” রিমি হেসে উঠল, তার শরীর দুলল কিন্তু শব্দ হলো না। আজিম সাহেব খেয়াল করলেন, মেয়েটির চেহারায় মায়া ছড়িয়ে আছে। তার দ্রুত উন্নতি সম্ভব।

আজহারুল ইসলাম
আজহারুল ইসলাম
+ posts

কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট।
সহকারী অধ্যাপক, এডুকেশনাল এন্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশিত বই

হইচই (২০১৯) 
মনোসন্ধি (২০১৭)
জাদুকাঠি (২০১৬) 

Post Author: আজহারুল ইসলাম

কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট। সহকারী অধ্যাপক, এডুকেশনাল এন্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকাশিত বই হইচই (২০১৯)  মনোসন্ধি (২০১৭) জাদুকাঠি (২০১৬) 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।