কাউন্সেলিং

খুব সাধারণভাবে দেখলে দুজন ব্যক্তির মধ্যে কথোপকথন। একজন বলছেন, অন্যজন শুনছেন। যে বলছেন, সে তার সমস্যার কথা, জীবনের কথা, সম্ভাবনার কথা বলছেন। অন্যজন অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে কোনো ধরনের পূর্ব বিচার-বিশ্লেষণ না করে তার কথা শুনছেন। আবার মাঝে মাঝে প্রশ্ন করছেন, যেন বিষয়টা পরিষ্কার হয়। এই কথোপকথনের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তি, যিনি কিনা কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট বা  কাউন্সেলর হিসেবে পরিচিত, চিহ্নিত করছেন সমস্যার ধরন, উৎপত্তি ও কারণ। এরপর দুজনে একসঙ্গে মিলেই ঠিক করেন কীভাবে সেই অবস্থা থেকে বের হওয়া যায়। পরিশেষে সেই অনুসারে উদ্যোগ নেন। আর এই পুরো প্রক্রিয়া একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করেই সম্পাদন করা হয়। একজন কাউন্সেলর জীবন-সম্পর্কিত নানারকম বৈজ্ঞানিক তত্ত্বীয় জ্ঞানের পাশাপাশি পেশাগত নিবিড় প্রশিক্ষণ আর অভিজ্ঞতার আলোকে তার সেবা দিয়ে থাকেন। যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত একজন কাউন্সেলর আয়নার মতো কাজ করবে, যেখানে আপনি দেখবেন আপনার ব্যক্তিত্ব, কলহ, অন্তর্দ্বন্দ্ব, সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা।
 

জীবনের সকল অভিজ্ঞতা কি সুখের হয়? হয় না। কখনও আমরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়, দারুণ সময় পার করি। আবার কখনও ভীষণ খারাপ সময় যায়। সবকিছুই অর্থহীন মনে হয়। নিজের প্রতি থাকেনা কোন সন্মান, কমে যায় আত্মবিশ্বাস। জন্ম থেকে শুরু করে বেড়ে উঠা, লেখাপড়া, চাকরি-বাকরি, সম্পর্ক, স্বাস্থ্য ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে সবসময়-যে যেমনটা হওয়ার কথা তেমনটা হয়, তা কিন্তু নয়। মাঝে মাঝে এর ব্যত্যয় ঘটে। ফলে আমাদের মননে এবং আচরণে তৈরি হতে পারে তাঁর প্রতিক্রিয়া। এই প্রতিক্রিয়া অতি সামান্য থেকে জীবন শেষ করে দেয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে। জীবন চলার পথটা হয়ে যেতে পারে অস্বচ্ছ বা কুয়াশাচ্ছন্ন। অবস্থাটা এমন দাঁড়ায় যে আমরা নিজেরা এর থেকে বের হতে পারি না। আমাদের সি-ড্রাইভ তথা ব্রেইন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। তখনই প্রয়োজন সি-ড্রাইভ ক্লিনার। হ্যা, একজন প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর আপনার সি-ড্রাইভ ক্লিনারের মতই কাজ করবে। মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং নেয়ার জন্য একজনকে মানসিক রোগী হতে হয় না। যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো সময় কাউন্সেলিং নিতে পারে। এটি একটি পার্শ-প্রতিক্রিয়াহীন ইতিবাচক প্রক্রিয়া।    

একক ও দলীয়ভাবে কাউন্সেলিং হয়ে থাকে। 

একজন ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য অনেকগুলো বিষয়ের সাথে জড়িত। যেমন, পরিবারে তার বেড়ে ওঠার ইতিহাস, জৈবিক গড়ন, পিতামাতা বা অন্য অভিভাবক/পরিচর্যাকারীর সাথে তার বন্ধন, সামাজিকীকরণ, শিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা, প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে চলার সক্ষমতা ইত্যাদি। তাই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় সমাধান আসে বহুমাত্রিক ব্যবস্থাপনায়। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যে ব্যাঘাত ঘটলে একাধিক পেশাদারের সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে। কী ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হবে তা নির্ভর করছে সমস্যার গভীরতার ওপর। সাধারণ মানুষের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবিদের নিয়ে স্বচ্ছ ধারণার অভাব লক্ষণীয়। সেই স্বচ্ছতার জন্য নিচে সকল পেশাজীবীদের সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দিচ্ছি। কার কোন কাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সময় আপনার কী কী অধিকার রয়েছে তা এখান থেকে জানতে পারবেন—

সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনঃচিকিৎসক

মনঃচিকিৎসক সাধারণত এমবিবিএস ডিগ্রী সম্পন্ন করার পর মানসিক স্বাস্থ্য ও মানসিক রোগের ওপর নিবিড় পড়াশোনা এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। তাঁরা মানসিক রোগ সনাক্ত করেন এবং এর ভিত্তিতে ঔষধের পরামর্শ দেন। ক্ষেত্র বিশেষে প্রশিক্ষিত অনেক মনঃচিকিৎসক কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপীও করে থাকেন।

কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট

সাইকোলজি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করে কাউন্সেলিং সাইকোলজি নিয়ে মাস্টার্স এবং এমফিল ডিগ্রী অর্জন করতে হয়। মাস্টার্স এবং এমফিল পর্যায়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ, সুপারভিশন আর সরাসরি ক্লায়েন্ট দেখতে হয়। একজন কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট মানসিক স্বাস্থ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে থাকেন। মনস্তত্বের জৈবিক, সামাজিক, ও পরিবেশগত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ক্লায়েন্টের বর্তমান মানসিক অবস্থার ওপর ধারণা করেন এবং সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত কাউন্সেলিং পদ্ধতি ব্যবহার করেন। কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্টদের সেবা শুধু মানসিক রোগীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। যেকোনো মানুষ জীবনের যেকোনো পর্যায়ে কাউন্সেলিং সেবা নিতে পারে। তাঁরা কোনো ধরনের ঔষধের পরামর্শ দেন না। তবে সমস্যার ধরন অনুযায়ী অনেকক্ষেত্রে তাঁরা মনঃচিকিৎসকের কাছে ক্লায়েন্টকে রেফার করেন। একটি কাউন্সেলিং সেশন সাধারণত ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা ব্যাপি হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিং সাইকোলজির ওপর বিশেষায়িত মাস্টার্স এবং এমফিল ডিগ্রী করার সুযোগ আছে।

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট

সাইকোলজি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি নিয়ে মাস্টার্স এবং এমফিল ডিগ্রী অর্জন করতে হয়। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টকেও মাস্টার্স এবং এমফিল পর্যায়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ, সুপারভিশন আর সরাসরি ক্লায়েন্ট দেখতে হয়। তারাও কোনো ঔষধের পরামর্শ দেন না। মনঃচিকিৎসকের পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টরাও মানসিক রোগের চিকিৎসায় মনোবৈজ্ঞানিক সেবা যেমন কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপী দিয়ে থাকেন।

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি’র ওপরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত মাস্টার্স এবং এমফিল ডিগ্রী করার সুযোগ আছে।

এডুকেশনাল অথবা স্কুল সাইকোলজিস্ট

শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় নানাবিধ মানসিক অসুবিধা মোকাবেলায় এডুকেশনাল বা স্কুল সাইকোলজিস্ট কাজ করে থাকেন। শিশুর বেড়ে ওঠা, শিক্ষণজনিত সমস্যা, শিক্ষা প্রক্রিয়া, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর জন্য কারিকুলাম ও শিক্ষা পদ্ধতির জন্য পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। এডুকেশনাল সাইকোলজিস্টরা শিশু, স্কুল, শিক্ষক এবং অভিভাবকের সাথে যৌথভাবে সেবা দিয়ে থাকেন। এদেরও সাইকোলজি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করে এডুকেশনাল বা স্কুল সাইকোলজি নিয়ে মাস্টার্স এবং এমফিল ডিগ্রী অর্জন করতে হয়।

এডুকেশনাল বা স্কুল সাইকোলজি’র ওপরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত মাস্টার্স এবং এমফিল ডিগ্রী করার সুযোগ আছে।

কাউন্সেলর

সাইকোলজিতে স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রী না নিয়েও মনোবৈজ্ঞানিক সেবার বিভিন্ন তত্বের ওপর নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য দিয়ে থাকেন। এদেরকে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলর বলা হয়ে থাকে। সমস্যার ধরন দেখে এরা যথাযথ পেশাদারের কাছে ক্লায়েন্টকে রেফার করে থাকেন।

ক্লিনিক্যাল সোস্যাল ওয়ার্কার

মানসিক অসুস্থতার প্রাথমিক মূল্যায়ন, সনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় সেবার দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। সমাজ কর্ম বিষয়ে স্নাতক সহ ক্লিনিক্যাল সোস্যাল ওয়ার্কে উচ্চতর ডিগ্রী আর প্রশিক্ষণ থাকতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে পড়ার সুযোগ আছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের অস্বাভাবিকতা অনুভব করলে, আপনি উপরে উল্লেখিত প্রথম তিনটি পেশার যেকোনো একজনের সাথে সাক্ষাত করতে পারেন। মানসিক অসুস্থতার তীব্রতা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনে তারা যথাযথ পেশার ব্যক্তির কাছে রেফার করতে পারেন। যেমন, আপনার সমস্যা বা প্রাথমিক উপসর্গ যদি প্রতিষ্ঠিত মানদণ্ডে কোনো রোগের সাথে মিলে যায়, আপনাকে সরাসরি একজন মনোচিকিৎসকের কাছে পাঠানো হবে। মনোচিকিৎসক ঔষুধের পরামর্শ দিতে পারেন সাথে কাউন্সেলিং বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের কাছে কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপির জন্য পাঠাতে পারেন। প্রতিষ্ঠিত কোনো মানসিক রোগের লক্ষণ ছাড়াও আমরা মানসিক অসুবিধার মধ্যে থাকতে পারি। যেমন, সামাজিক দক্ষতার ঘাটতি, সামাজিক পরিবেশে কথা বলতে অসুবিধা, আন্তঃর্ব্যক্তিক সম্পর্ক, মনোযোগের ঘাটতি, মানসিক চাপ মোকাবেলা, রাগ ব্যবস্থপনা ইত্যাদি নানা অসুবিধায় একজন কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট দারুণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এছাড়াও, মনোচিকিৎসক, কাউন্সেলিং বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা করে থাকেন, শ্রেণি পাঠদান এবং প্রশিক্ষণও দিতে পারেন।

ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের জন্য অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আছে বিনামূল্যে কাউন্সিলিং নেওয়ার সুবিধা। বিস্তারিত জানতে পরবর্তী লিঙ্কগুলোতে দেখুন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শ দফতরে (টিএসসি’র ২য় তলা) প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারির জন্য বিনামূল্যে কাউন্সিলিং সেবার ব্যবস্থা আছে। যেকোনও কর্মদিবসে সরাসরি সেখানে গিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। কাউন্সিলিং ছাড়াও ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন মনোসামাজিক প্রশিক্ষণ যেমন ‘রাগ ব্যবস্থাপনা ‘উদ্বেগ ব্যবস্থাপনা’ ‘সামাজিক দক্ষতা’ ইত্যাদির আয়োজন করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির দোতালায় কাউন্সিলিং করার ব্যবস্থা রয়েছে। জাবি’র শিক্ষার্থীরা যেকোনও কর্মদিবসে চলে আসুন সেবা গ্রহণ করার জন্য।

ঢাকা কলেজ

ঢাকা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগ দ্বারা পরিচালিত কাউন্সিলিং অ্যান্ড গাইডেন্স সেন্টারে প্রতি সোম ও মঙ্গলবার (১২.০০-২.০০টা পর্যন্ত) কলেজের ছাত্র ও স্টাফদের জন্য বিনামূল্যে কাউন্সিলিং সেবার ব্যবস্থা রয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাইকিয়েট্রি বিভাগে শনি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কাউন্সিলিং ও সাইকোথেরাপি করা হয়। এর জন্য বহির্বিভাগে ১০ টাকা দিয়ে একটা টিকিট কাটতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শাহবাগ,ঢাকা) এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে (কলেজগেট, ঢাকা) শনি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ১০ টাকা টিকেটের কেটে এই সেবা গ্রহণ করা যাবে।

বেসরকারি অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের জন্য কাউন্সিলিং, মনোসামাজিক প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। যেমন,

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়,

নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়,

ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়,

গ্রীন বিশ্ববিদ্যালয়, 

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এ

নিজস্ব কাউন্সিলিং ইউনিট আছে। চট্রগ্রামে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন-এ মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কাউন্সিলিং সেবার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ,

উইলস লিটিল ফ্লাওয়ার স্কুল,

স্কলাস্টিকা,

আগা খান স্কুল, প্রয়াস (ক্যান্টনমেন্ট) বিশেষায়িত স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

ছাড়াও বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন (বিপিএফ) পরিচালিত বিশেষায়িত স্কুলে শিশু ও বাবা-মা’দের কাউন্সেলিং এবং শিশুদের বিভিন্ন এসেসম্যান্ট করা যায়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রে বিনামূল্যে কাউন্সিলিংসেবা দেওয়া হয়। যেকোনও কর্মদিবসে অফিস চলাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানের অফিসে (৭/১৭, ব্লক-বি,লালমাটিয়া, ঢাকা-১২০৭) গিয়ে আবেদন করতে হবে।

এছাড়াও জাতীয় ট্রমা কাউন্সিলিং সেন্টারেও (মহিলা বিষয়ক অধিদফতর ভবন, ৩৭/৩, ইস্কাটন গার্ডেন রোড,ঢাকা ১০০০) নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়।

আপনি যদি ফি দিয়ে কাউন্সিলিং সেবা পেতে চান তাহলে যোগাযোগ করতে পারেন

ঢাকা এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সিলিং সাইকোলজি বিভাগে (৫ম তলা, কলা ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। এখানে শিশু কিশোর ও বয়স্কদের জন্য কাউন্সিলিং সহ বিভিন্ন অ্যাসেসমেন্ট করা হয়। শিশুদের জন্য প্রতি সেশন ফি (প্রায় ১ ঘন্টা) ৮০০ টাকা এবং বয়স্কদের জন্য ৬০০ টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০০ টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ পরিচালিত নাসিরুল্লাহ সাইকথেরাপি ইউনিট (৪র্থ তলা,কলা ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)-এ পাবেন কাউন্সিলিং ও সাইকোথেরাপি। সেশন ফি ৩০০ টাকা, গ্রুপ সেশন ১৫০ টাকা।

হিলিং হার্ট কাউন্সেলিং সেন্টারে (বাড়ী নং ১২১, রোড ৬, ব্লক বি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২১৯) প্রাপ্ত বয়স্কদের যেকোন সমস্যায় কাউন্সেলিং ও সাইকোথেরাপী দেয়া হয়। সেশন ফি ১৫০০ টাকা (প্রথম সেশন)। পরবর্তী সেশন ১০০০ টাকা।

সাজিদা ফাউন্ডেশন (বাড়ি নং ৯২, রাস্তা/সড়ক নং ২৩/এ, ব্লক-এ, বনানী। ফোন ০২৫৫০৩৫৪৩৩, ০১৭৭৭৭৭১৫১৫) কাউন্সেলিং সেবার ব্যবস্থা আছে। প্রথম সেশন ফি-১০০০ টাকা এবং দ্বিতীয় সেশন থেকে ফি ৮০০ টাকা। পারিবারিক কাউন্সেলিং এ প্রথম সেশন ফি-১২০০ টাকা এবং দ্বিতীয় সেশন থেকে ১০০০ টাকা।

সিনাক্টি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস কাউন্সেলিং সেন্টার 

বাসা নং ৩৭/বি, ব্লক-ই, জাকির হোসেন রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

ফোন ০১৯৭০২০২২৮৮

ড. আনিসুর রহমান ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সেন্টার ফর কাউন্সেলিং অ্যান্ড সাইকোথেরাপি (আর্ক/ARC) বাসা নং ২৮/এ(৫ম তলা), রাস্তা নং ২, ধানমন্ডি, (আড়ং আউটলেটের উপরের তলা, সায়েন্স ল্যাবরেটরী মোড়), ঢাকা-১২০৫। ফোন ০১৭৪৩০৩৯১

মনোবিকাশ ফাউন্ডেশন

কক্ষ নং ৩৬-৩৯, ২য় তলা, গ্রীণ সুপার মার্কেট, গ্রীণ রোড, ঢাকা।

ফোন ০১৮৩৭৭৩৩১০০, ০১৬৭৫৫৫৮৩৩৯

ক্রিয়া

বাসা নং ৩১২, রাস্তা নং ২, বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি, আদাবর, ঢাকা।

ফোন ০১৭২৪৯৭৯৪১৫

সেন্টার ফর মেন্টাল হেলথ, বাংলাদেশ(সিএমএইচ,বি)

৭৮/২, ৩য় তলা, নিউ এয়ারপোর্ট রোড, তেজকুনিপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।

ফোন ০১৯৭৪৩৪৯৫৬৯

এর বাইরে, অনেক কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে থাকেন যেখানে আপনাকে ৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত সেশন ফি দিতে হতে পারে।

সিডাব্লিউএফডি

১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা সম্পর্কে তথ্য ও পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি মানসিক বিষয়ে কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করা হয়। জাতীয় ছুটির দিন ব্যতিত সপ্তাহে সাতদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত হেল্পলাইন নম্বর সচল থাকে।

০৯৬ ১২ ৬০০ ৬০০

স্কয়ার টয়লেট্রিজ বাংলাদেশ

যেকোন ধরণের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে টেলিফোনে কাউন্সেলিং নেয়ার জন্য ফোন করতে পারেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ বাংলাদেশের টেলিকাউন্সেলিং সেন্টারে। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত হেল্পলাইন নম্বরটি সচল থাকে।

০৯৬১২২২২৩৩৩

কান পেতে রই

সরাসরি কাউন্সিলিং না নিয়ে শুধু নিজের অব্যক্ত কথাগুলো কাউকে বলতে চান, যে মনোযোগ দিয়ে আপনার কথা শুনবে, আপনার মতো বোঝার চেষ্টা করবে, আপনাকে মানসিক সহায়তা দিবে, তাহলে ফোন করতে পারেন ‘কান পেতে রই’-এর ভলান্টিয়ারদের। রবিবার থেকে বুধবার দুপুর ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত এই নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন— ০১৭৭৯৫৫৪৩৯১, ০১৭৭৯৫৫৪৩৯২,০১৬৮৮৭০৯৯৬৫, ০১৬৮৮৭০৯৯৬৬, ০১৯৮৫২৭৫২৮৬, ০১৮৫২০৩৫৬৩৪।

মায়া আপা

ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়।

https://www.maya.com.bd

বাংলাদেশে পেশাদার মনোবিজ্ঞানীর কোনো আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক মাপকাঠি এখনও গড়ে উঠেনি। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত উপায় হচ্ছে, মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক এবং বিশেষায়িত বিষয়ে এমএস এবং এমফিল ডিগ্রী সম্পন্ন হলে একজনকে পেশাদার মনোবিজ্ঞানী হিসেবে ধরা হয়।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি, এডুকেশনাল সাইকোলজি, কাউন্সেলিং সাইকোলজি, স্কুল সাইকোলজি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড অরগানাইজেশনাল সাইকোলজি-তে বিশেষায়িত এমএস এবং এমফিল ডিগ্রী দেয়া হয়।

সাইকোলজিতে স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রী না নিয়েও মনোবৈজ্ঞানিক সেবার বিভিন্ন তত্বের ওপর নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য দিয়ে থাকেন, যাদের মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলর বলা হয়। সমস্যার ধরন দেখে এরা যথাযথ পেশাদারের কাছে ক্লায়েন্টকে রেফার করে থাকেন।

  • পেশাজীবী তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেবে।
  • সেবার জন্য ফি কত হবে তা আগে থেকেই আপনার পরিষ্কারভাবে জানা থাকবে।
  • সেবা নেয়ার স্থান এমন হবে যাতে আপনার গোপনীয়তা লঙ্ঘিত না হয়।
  • চিকিৎসক আপনার সকল তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রাখবে। বিশেষ কোনো পরিস্থিতি ছাড়া আপনার সাথে যত রকমের তথ্যের আদান প্রদান হয়েছে তা সম্পূর্ণ গোপনে সংরক্ষিত থাকবে।
  • কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপির জন্য ন্যূনতম ৪৫ মিনিট সময় দিবে।
  • আপনার অসুবিধা নিয়ে হাসি ঠাট্টা করবে না, আপনাকে অন্যের সামনে হেয় করবে না।
  • আগাম নোটিস না দিলে অ্যাপোয়েন্টমেন্টের জন্য নির্ধারিত সময়ে আপনাকে সময় দেবে।
  • অন্য কোনো পেশাদারের কাছে আপনাকে রেফার করলে তার কারণ আপনাকে ব্যাখ্যা করবে।

কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপি নিয়ে সচরাচর ২৫ টি প্রশ্ন ও তার উত্তর পাবেন এখানে। ক্লিক করুণ।